ব্যস্ত শহর ঢাকা থেকে দূরের রাস্তায় বেরিয়ে পড়লে যে এক অনন্য স্বস্তি আর স্বাধীনতার অনুভূতি পাওয়া যায়, সেটা একজন রাইডারের জন্য অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। ঠিক তেমনই একটি যাত্রার গল্প হলো আমার ঢাকা থেকে জামালপুরের (Dhaka to Jamalpur) বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত এই বাইক রাইড। নীল পরীর সঙ্গেই শুরু হওয়া এই যাত্রা আমাকে দেখিয়েছে প্রকৃতি, মানুষ, ইতিহাস আর গ্রামীণ সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
যাত্রার শুরু: ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল মহাসড়ক
ঢাকা থেকে গাজীপুর—চন্দ্রা—মৌচাক হয়ে টাঙ্গাইল মহাসড়কে উঠতেই রাস্তার প্রশস্ততা আর মসৃণতা রাইডটাকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলেছিল।
সকালের নরম আলোয় ঢাকা ছাড়তেই যেন মনে হচ্ছিল শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে নতুন কিছু দেখতে যাচ্ছি। মহাখালী–ভালুকা–ময়মনসিংহ রোড ধরে এগিয়ে যেতে যেতে রাস্তার দুইপাশের প্রকৃতি আরও সবুজ আর শান্ত হয়ে উঠছিল। মাঝে মাঝে থেমে একটু বিশ্রাম নেওয়া, চা খাওয়া—এসব মিলিয়ে যাত্রা আনন্দদায়ক হয়ে উঠেছিল।
গন্তব্য: বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ
দীর্ঘ রাইড শেষে পৌঁছালাম বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে। ভবনটির সামনে দাঁড়িয়েই প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়ে তা হলো এর পরিচ্ছন্নতা ও শান্ত পরিবেশ। চারদিকে খোলা জায়গা, সবুজ গাছপালা আর সরকারি বিভিন্ন ভবন এলাকাটিকে করে তুলেছে সুন্দর ও পর্যটক-বান্ধব।
উপজেলা পরিষদের আশপাশে ঘুরে দেখলাম স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ছোট ছোট দোকানপাট। এলাকার মানুষ খুবই আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ, যা এই ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
শেষ অনুভূতি
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে বকশীগঞ্জ পর্যন্ত বাইক রাইড আমার কাছে ছিল এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। যারা বাইক চালিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই রুটটি হতে পারে এক অনন্য আনন্দের ভ্রমণ। দীর্ঘ রাস্তা, প্রকৃতির সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ, সব মিলিয়ে এটি নিঃসন্দেহে একটি পারফেক্ট ডে-রাইড রুট।

